ঢাকা কলকাতা
অনেক প্রশংসনীয় উদ্যোগ ও আচরণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা, বাংলাদেশ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান সামনে রেখে একাধিক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সরকারি গাড়ি, চালক ও জ্বালানি ব্যবহার না করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চলাচল, প্রটোকল কমানো এবং শনিবারেও অফিস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী।তার এসব উদ্যোগ প্রশংসিত হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত নতুন প্রধানমন্ত্রী ব্যতিক্রমী যে সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছেন সেগুলো হচ্ছে—
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার ব্যক্তিগত গাড়ি, নিজস্ব চালক ও নিজের কেনা জ্বালানি ব্যবহার করবেন তার চলাচলের জন্য।
জনদুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে আগে ১৩-১৪টি গাড়ি থাকতো সেই বহরে গাড়ি কমিয়ে ৪টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের সময় সড়কের দুই পাশে পুলিশের সারিবদ্ধ অবস্থান নিতে হতো আগে, সেই প্রথা বাতিল করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া সাধারণ চলাচলে গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জনভোগান্তি কমাতে মন্ত্রিসভার বৈঠক অধিকাংশ সময় সচিবালয়ে আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া প্রশাসনিক কাজে গতি আনতে শনিবারও অফিস করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এদিকে আরও দেখা যাচ্ছে যে রাস্তায় চলাচলের সময় নিজে এগিয়ে অনেকের সাথে হ্যান্ডশ্যাক করছেন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর প্রোটোকল ভেঙ্গে ছোট ও তরুণদের সাথে ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলছেন। এই বিষয়গুলো সাধারণ মানুষদের মাঝে অনেক ইতিবাচক সাড়া জাগাচ্ছে।
তারেক রহমানের জন্য মমতার মিষ্টি প্রেরণ

আশা কুন্ডে, কলকাতা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও মিষ্টি পাঠিয়েছেন ভারতের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারম্যানের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে পাঠানো ফুল ও মিষ্টি গ্রহণ করেন দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন।
এর আগে শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তারেক রহমানকে ‘ভাই’ সম্বোধন করে লেখেন, ‘বাংলাদেশের সকল ভাইবোনকে, জনগণকে, জানাই আমার শুভনন্দন, আমার আগাম রমজান মোবারক। বাংলাদেশের এই বিপুল জয়ের জন্য অভিনন্দন জানাই আমার তারেক ভাইকে, তার দলকে ও অন্যান্য দলকে। সবাই ভালো থাকুন, সুখী থাকুন।’
পাশাপাশি দুই বাংলার সুসম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে—এ আশাবাদ ব্যক্ত করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সবসময় সুসম্পর্ক বজায় থাকুক, সেটিই তাদের কামনা।
নতুন মন্ত্রিসভা ও মিত্র দল

মিয়া মুরসালীন, ঢাকা: ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর এখন সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া নতুন এই মন্ত্রিসভার চেহারা কেমন হতে যাচ্ছে এবং সেখানে কারা জায়গা পেতে যাচ্ছেন।
নতুন মন্ত্রিসভায় দলের তরুণ নেতারা কতটা স্থান পাচ্ছেন এবং সমমনা দলগুলোকে রাখা হচ্ছে কি-না, এসব প্রশ্ন ঘিরেও বিভিন্ন মহলে নানান আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা হতে দেখা যাচ্ছে।
এমনকি মন্ত্রিসভায় রাখার জন্য বিজয়ীদের কারো কারো পক্ষে ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালানোর ঘটনাও চোখে পড়ছে।
যদিও বিএনপি’র পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নতুন মন্ত্রিসভার আকার ও চেহারার বিষয়ে আনুএক্ষেত্রে গঠন ও আকৃতিতে পরিবর্তন এনে মন্ত্রণালয়ের সংখ্যাও কমিয়ে ত্রিশের নিচে নামিয়ে আনার চিন্তা করছে বিএনপি।
মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা কমিয়ে আনার ফলে একদিকে সরকারের ‘কাজ যেমন সহজ হবে’, তেমনি ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা’ও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করে দলটি।ষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
নিজ দলের বাইরে ভোটে জয় পাওয়া সমমনা অন্য দলগুলোর নেতাদের মধ্যেও অনেকে সেই মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে যাচ্ছেন বলে আভাস দিয়েছেন বিএনপি’র সিনিয়র নেতারা।
নতুন মন্ত্রিসভায় নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে।
বি এন পি ও জামাতের মিত্র দল
বাংলাদেশে ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও মিত্রদল – বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এবং দলটির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা আরো আটটি মিত্র দল এই নির্বাচনে আসন ভাগাভাগি করছে। দলগুলো হচ্ছে – বিএনপি, জমিয়তে উলামা-এ ইসলাম বাংলাদেশ, গণ অধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) এবং ইসলামী ঐক্য জোট। এটি নির্বাচনী জোট নয়। মিত্রদের জন্য সারাদেশে আটটি আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি।
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট – এটি একটি নির্বাচনী জোট। এ জোটের সদস্য দলগুলো হচ্ছে – বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, আমার বাংলাদেশ পাটি (এবি পার্টি), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টি।
১০০ টাকা ঘুষ মামলায় ৩৯ বছর পর খালাস, ৮৩ বছর বয়সে ন্যায়বিচার, জীবন ও ক্যারিয়ার ধ্বংস

শুভ্রা চক্রবর্তী কলকাতা থেকে: ভোপাল। মধ্যপ্রদেশ রাজ্য সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (এমপিএসআরটিসি) প্রাক্তন বিলিং সহকারী জগেশ্বর প্রসাদ আওয়াধিয়া ৩৯ বছর পর অবশেষে ন্যায়বিচার পেয়েছেন। ১৯৮৬ সালে ১০০ টাকা ঘুষ মামলায় লোকায়ুক্তের জালে আটক হয়ে ২০০৪ সালে নিম্ন আদালত আওয়াধিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করে। এখন, ছত্তিশগড় হাইকোর্ট তাকে খালাস দিয়েছে।
অপর্যাপ্ত প্রমাণ এবং বেশ কয়েকটি ত্রুটির ভিত্তিতে হাইকোর্ট দোষী সাব্যস্ত করার জন্য দোষী সাব্যস্ত করার জন্য যথেষ্ট নয়। আদালত বলেছে যে ঘুষের দাবি এবং স্বেচ্ছায় গ্রহণ যুক্তিসঙ্গত সন্দেহের বাইরে প্রমাণিত না হলে কেবল নোট উদ্ধারই দোষী সাব্যস্ত করার জন্য যথেষ্ট নয়। কিন্তু আওয়াধিয়া, যিনি তার শীর্ষে ছিলেন, তার জন্য এই রায় একটি ফাঁকা জয়।
মামলা-মোকদ্দমায় জীবন হারিয়ে যাওয়া
মামলাটি শুরু হয় যখন তার সহকর্মী অশোক কুমার ভার্মা অভিযোগ করেন যে আওধিয়া, যিনি তখন একজন বিলিং সহকারী ছিলেন, তার পাওনা পরিশোধের জন্য ১০০ টাকা দাবি করেছিলেন। লোকায়ুক্ত ফেনলফথালিন পাউডার মেশানো নোট খুঁজে পান।
আওধিয়া দাবি করেন যে নোটগুলি জোর করে তার পকেটে রাখা হয়েছিল। তবুও, এই উদ্ধারকে অপরাধের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করে, তাকে বরখাস্ত করা হয় এবং দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তিনি প্রায় চার দশক ধরে আদালতে এই লড়াই চালিয়েছেন, যার ফলে তার ক্যারিয়ার, আর্থিক পরিস্থিতি এবং পারিবারিক জীবন ধ্বংস হয়ে গেছে।
“ন্যায়বিচার হয়েছে, কিন্তু আমার জন্য নয়”
জগেশ্বর আওধিয়া কেঁদেছিলেন, “আমার বরখাস্তের পর, আমি অর্ধেক বেতন পেয়েছিলাম বলে আমার সন্তানদের ভালো স্কুলে পাঠাতে পারিনি। আমি যা পেতাম তা দিয়েই আমাকে চলতে হয়েছিল। এমনকি আমার মেয়েদের বিয়ে করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল কারণ আমার পরিবার আমাকে সমর্থন করেনি। এখন, আমি আমার ছোট ছেলে নীরজের জন্য একটি চাকরি চাই, কারণ বেকারত্বের কারণে তার বিয়ে হতে পারেনি। তার শিক্ষা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।”
আওধিয়ার গল্প ভারতে দীর্ঘস্থায়ী মামলা-মোকদ্দমার ভয়াবহ মানবিক মূল্য তুলে ধরে। বিচারে বিলম্ব প্রায়শই মানুষের মর্যাদা, জীবিকা এবং স্থিতিশীলতা কেড়ে নেয়।
“আমার শিক্ষার খরচ বহন করার জন্য আমাকে কাজ করতে হত।”
বৃদ্ধ জগেশ্বরের জ্যেষ্ঠ পুত্র অখিলেশ বলেন, “আমি দশম শ্রেণীতে পড়তাম যখন এই ঘটনাটি আমাদের নাড়া দিয়েছিল। স্কুলের পরে, আমাকে ৩০০ টাকার বিনিময়ে ছোট ছোট কাজ করতে হয়েছিল আমার পড়াশোনার খরচ বহন করতে। দারিদ্র্যের কারণে, আমরা খেতেও পারতাম না। হারিয়ে যাওয়া সময়ের ক্ষতিপূরণ কিছুই দিতে পারে না। আমি চাই বিচার ব্যবস্থার সংস্কার করা হোক যাতে ভবিষ্যতে কাউকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি না হতে হয়। তদুপরি, ভারতীয় বিচারিক কোড বাস্তবায়নের ফলে পুরানো রীতিনীতিগুলি দূর হবে। আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করছি যে আমার বাবাকে স্থগিতাদেশের কারণে যে ক্ষতি হয়েছে তার জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক যাতে তিনি শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারেন।”
এখন, আওয়াধিয়া আশা করেন যে রাজ্য সরকার তার প্রতি করা অন্যায় স্বীকার করবে। তার একমাত্র আবেদন তার ছেলে নীরজের জন্য একটি চাকরি, যার পারিবারিক কলহের কারণে ভবিষ্যৎ অন্ধকার এবং যিনি অবিবাহিত। যাইহোক, এই মামলাটি একটি গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করে: যখন ন্যায়বিচার বিলম্বিত হয়, তখন কি সময় সত্যিই ক্ষত সারিয়ে তুলতে পারে?
বাংলাদেশের ঢাকায় বুলডোজার দিয়ে দূর্গা মন্দির ও প্রতিমা ভাংচুর

শিশির হালদার, ঢাকা, বাংলাদেশ থেকে: ঢাকার খিলক্ষেত বুলডোজার দিয়ে শ্রী শ্রী দূর্গা মন্দির ও প্রতিমা ধ্বংস, ভাংচুর ও প্রতিমা লুঠ এবং লালমনিরহাটে তথাকথিত ধর্ম অবমাননার অযুহাতে পরেশ চন্দ্র শীল ও বিষ্ণুপদ শীল এর উপর হামলা রক্তাক্ত যখম ও মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের প্রতিবাদে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে অদ্য ২৭ জুন শুক্রবার সকাল ১০.০০টায় ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট এক মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মানব বন্ধনে বক্তব্য রাখেন হিন্দু মহাজোটের সভাপতি অ্যাডঃ দীনবন্ধু রায়, নির্বাহী সভাপতি অ্যাডঃ প্রদীপ কুমার পাল, প্রধান সমন্বয়কারী বিজয় কৃষ্ণ ভট্টাচার্য, মহাসচিব অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, যুগ্ম মহাসচিব ডাঃ হেমন্ত দাস, বিশ্বনাথ মোহন্ত, অ্যাডভোকেট শুভ মজুমদার, কল্যাণ মন্ডল, সাংগঠণিক সম্পাদক কিশোর বর্মন, যুব মহাজোটের সভাপতি গৌতম সরকার অপু, ছাত্র মহাজোটের সভাপতি সজিব কুন্ডু তপু, সাধারন সম্পাদক নিলয় পাল আদর, অপূর্ব মৃধা, উৎপল ভৌমিক, পল্লব দাস, সজিব দাস, শুভজিৎ চক্রবর্তী প্রমূখ।

বক্তাগণ বলেন মৌলবাদীদের দাবীর প্রেক্ষিতে ঢাকার খিলক্ষেত পুলিশ ও সেনাবাহিনী বুলডোজার দিয়ে শ্রী শ্রী দূর্গা মন্দির ও প্রতিমা ধ্বংস, মন্দির পুজার আসবাবপত্র ও প্রতিমা অসম্মান করে ট্রাকে করে লুঠ করেছে। লালমনিরহাটে তথাকথিত ধর্ম অবমাননার অযুহাতে পরেশ চন্দ্র শীল ও বিষ্ণুপদ শীল এর উপর হামলা রক্তাক্ত জখম ও মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। খিলক্ষেত এলাকার মৌলবাদীদের দাবীতে সরকার কর্তৃক ধ্বংস করা মন্দিরের পাশেই রেলওয়ের জমিতে পাশেই মসজিদ মাদ্রাসা ও একাধিক রাজনৈতিক দলের অফিস রয়েছে। সরকার সেসব ধ্বংস না করে শুধুমাত্র হিন্দু মন্দির ও প্রতিমা ধ্বংস করে চরম সাম্প্রদায়িকতার পরিচয় দিয়েছে। দেশে হিন্দু বিদ্বেষ চরম আকার ধারন করেছে। হিন্দুদের জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। কিছুদিন আগে যশোরে ১৮টি হিন্দু বাড়ী দোকান পাঠ, মটর সাইকেল সহ ঘরের আসবাবপত্র, খাদ্য সব কিছু ভষ্মীভূত করেছে। ধর্ম অবমাননার অযুহাতে বিভিন্ন স্থানে হামলা ও মিথ্যা মামলার ঘটনা ঘটেছে। সরকার এবং প্রশাসন পুরোটাই মৌলবাদীদের অঙ্গুলী ইসারায় চলছে। লালমনিরহাটে মব সৃষ্টিকারীদের গ্রেফতার না করে উল্টো হামলায় রক্তাক্ত যখম হওয়া ভিকটিদের মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করেছে। বক্তাগণ আরো বলেন, আমরা আশা করেছিলাম স্বৈরাচার উচ্ছেদের পর দেশে কোন বৈষম্য থাকবে না। সকল ধর্মের মানুষ সমঅধিকার ও সম মর্যাদা পাবে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, উপদেষ্টা পরিষদে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নাই। ১০ টি সংস্কার কমিটির একটিতেও কোন হিন্দু সদস্য নাই। বিভিন্ন সেক্টরের নিয়োগে হিন্দু সম্প্রদায় উপেক্ষিত। শুধু তাই নয় যে সংবিধান সকল নাগরিকের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন। সেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মতামতও গ্রহণ করে নাই। পুরো প্রশাসন তালিবানী মতাদর্শে চলছে।
গত দুই মাসের মধ্যে সারা দেশে হিন্দু নির্যাতনের ঘটনা অতিতের সকল রেকর্ডকে ভঙ্গ করেছে। প্রতিদিনই দেশের কোন না কোন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ীঘর ভাংচুর, জমি দখল, হত্যা, হত্যা প্রচেষ্টা, অপহরন, নারী নির্যাতন, মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার, দেশ ত্যাগে বাধ্যকরন এর হুমকীর মত একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলেছে।
বক্তাগণ বলেন যেখানে মন্দির ছিল জায়গাটি ভাওয়াল রাজা রাজেন্দ্র নারায়ন রায় চৌধুরীর সম্পত্তি। রেলওয়ে কোন প্রকার ক্ষতিপুরন না দিয়ে দখল করেছে। সুতরাং হিন্দুর সম্পত্তিতে হিন্দুর মন্দির অবৈধ ছিল না। রেলওয়ে ও প্রশাসন শুধু মন্দির ও প্রতিমা ধ্বংস করেই ক্ষান্ত হয় নাই। প্রতিমাগুলো চরম অসম্মান করে ভেঙ্গে চুরে দড়ি দিয়ে বেঁধে ট্রাকে করে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে ফেলে দিয়ে চরম ধর্ম অবমাননা করেছে। তার ভিডিও ফুটেজ সোসাল মিডিয়া সহ গোয়েন্দা ও প্রশাসনের হাতে থাকা সত্বেও রেল উপদেষ্টা চরম মিথ্যাচার করে বিবৃতি দিয়েছে হিন্দু সম্প্রদায় তাদের প্রতিমা বিষর্জন দিয়েছে। রেল উপদেষ্টা এহেন চরম মিথ্যাচার করে শপথ ভঙ্গ করেছেন। এই চরম মিথ্যাবাদীর এক মিনিটও ক্ষমতায় থাকার অধিকার নাই। বক্তাগণ আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে রেল উপদেষ্টার পদত্যাগ ও তার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার মামলা দায়ের, মব সৃষ্টিকারী অপরাধীদের গ্রেফতার ও মানবতা বিরোধী অপরাধ ট্রাইবুনালে বিচার করে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবী করেছেন। একই সংগে সরকারের দখলে থাকা রাজধানীর টিকাটুলির মদনেশ্বর মহাদেব মন্দিরের জায়গায় নির্মিত রাজধানী মার্কেট ও ৪ তলা মসজিদ উচ্ছেদ, ৯০/৯১ হৃষিকেশ দাস রোডের সীতানাথ মন্দিরের জায়গা দখলমুক্ত করন, ওয়ারীর ৩৮ টিপু সুলতান রোডের শঙ্খ নিধি মন্দির, ১ নং পুরানা পল্টনের লক্ষী নারায়ন মন্দিরের জায়গায় নির্মিত এফ এ টাওয়ার সহ সারা দেশের বেদখলকৃত সকল মন্দির ও মন্দিরের জায়গা হতে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে আগামী ৭ দিনের মধ্যে হিন্দুদের কাছে ফেরৎ দিতে হবে। অন্যথায় সারাদেশে ব্যপক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে ঘোষণা দেন। একই সংগে তারা বলেন ৭ দিনের মধ্যে দেশের সকল মন্দিরের জায়গা যদি দখলমুক্ত না হয় তাহলে এই মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক সরকারের অধীনে হিন্দু সম্প্রদায় কোন ভোট কেন্দ্রে যাবে না, কোন ভোটে অংশগ্রহণ করবে না, সকল ধরনের ভোট বর্জন করবে।
মার্কিন গায়ক ও অভিনেতা ববি শারমনের মৃত্যু

অনামিকা: বিখ্যাত মার্কিন গায়ক ও অভিনেতা ববি শারম্যান মারা গেছেন । গত মঙ্গলবার (২৪ জুন) প্রয়াণ ঘটে তার। সত্তর দশকের জনপ্রিয় এই তারকার মৃত্যুকালে বয়স হইয়েছিল ৮১ বছর। শারম্যান এর স্ত্রী ব্রিজিট পুয়েবলন শারম্যান ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন বার্তায় গায়কের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
ব্রিজিট লেখেন, ‘আমার স্বামী ববি শারম্যান আজ আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তার হাতে হাত রেখে তিনি আমাদের ভালোবাসার ২৯ বছরের সংসারকে সম্মান জানিয়ে বিদায় নিয়েছেন। এই কঠিন সময়েও তিনি আমার পাশে ছিলেন, সবসময় ছিলেন। তিনি ছিলেন সাহসী, কোমল আর আলোয় ভরা মানুষমাস কয়েক আগে জানা যায়, মারণঘাতি ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন শারম্যান; ছিলেন স্টেজ ৪ এ। সে সময় থেকেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি শুরু হয়। শেষদিকে কিডনি থেকে ক্যানসার তার শরীরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
বাংলাদেশের মাগুরার মহম্মদপুরে এক হাজার টাকা পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে ৩৫টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটে

শিশির হালদার, বাংলাদেশ থেকে : গত মঙ্গলবার (১৭ জুন) দিবাগত মধ্যরাতে মহম্মদপুর থানায় এ ঘটনায় ৪৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার দিনভর উপজেলার নহাটা ইউনিয়নের বেজড়া গ্রামে এ হামলার ঘটনা। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছুটে যায় যৌথবাহিনী। নহাটা ইউনিয়নের বেজড়া গ্রামের করিম মোল্যা একই গ্রামের মশিউরের কাছে এক হাজার টাকা পাওনা ছিল। গত সোমবার নহাটা বাজারে মশিউরের কাছ থেকে সেই টাকা ফেরত চায় করিম। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে সোমবার সন্ধ্যার দিকে করিম মোল্যার সমর্থকরা বাজারের একটি চায়ের দোকানে মশিউরের আপন ভাই শফিকে ব্যাপক মারধর করে।
এ ঘটনার জেরে এলাকায় উত্তেজনার মধ্যেই মঙ্গলবার সকালে করিমের সমর্থকরা আবারও মশিউরের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এসময় স্থানীয় বিএনপির নেতা ফারুক মেম্বার বাড়িও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলমান। এছাড়া সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে